Novel | বহুজগৎ – উপন্যাস

বহুজগৎ

© copyright manuscript - TH INFO
  • [ ] সন্ধ্যায় তাবুতে বসে সবাই রুটি খাচ্ছে। এমন সময় ভেজা চুল আর ঘন শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে তাবুতে ঢুকলো শামস। রাফ কে জিজ্ঞেস করল, তুমি বলেছিলে ক্যাসপিওরাই নাকি আমাদের শেষ বাঁধা? হ্যা, গুপ্তচর হয় প্রবেশ করে আলফি তো আমাকে এই কথাই বলেছিল। কেন কি হয়েছে? নতুন এক উটকো ঝামেলা এসে পড়েছে ফিপ্যাসের এক বড় দল আমাদের উপর আক্রমণ করার জন্য রওনা দিয়েছে। আগামীকাল ভোরের দিকেই তারা এখানে পৌঁছে যাবে। তা যাই হোক দলনেতা দমক কোথায়? এইতো, তাঁবুর ভেতর পাশে হয়তো বিশ্রাম নিচ্ছে।..আসতে পারি? কে..! ওহ আচ্ছা শামস, তা কি খবর আনলে এই ঝড়-বৃষ্টি অতিক্রম করে? আসলে এই ক্যাসপিওরা আমাদের সাথে পেরে ওঠেনি। আর তাদের তিন জন আমাদের হাতে নিহত হয়েছে।তাই তারা ফিপ্যাসের এক দলের সাথে জোট পাকিয়ে………… দমক বুঝতে পেরে বলল, কালকেই ওরা আমাদের উপর আক্রমণ করবে, তাই তো? অ্যা হ্যা..তুমি টিকই বুঝতে পেরেছো। এমন সময় বৃষ্টি থেমেগেল। রাফ এসে বলল, কিছু শুকনো লাকড়ি আছে, এগুলো বাইরে জ্বালিয়ে দিয়ে বসি সেখানে? দমক সম্মতি দিল। আগুন জ্বালিয়ে চারপাশে ঘিরে বসলো সবাই।

  • [ ] পাহাড়ের উপর থেকে রাতের আকাশটা দেখা যাচ্ছে, কিছুটা নয় বেশ ভালোই মেঘ কেঁটেছে। তারাগুলো টিপটিপ করছে, এক ফালি তরমুজের টুকরোর মতো চাঁদ উঠেছে। দমক শুনতে চাইলো ফিপ্যাসের ব্যাপারে। শামস বললো, শুনেছি ওরা দলে বলে পরিপূর্ণ, কিন্তু আমাদের লোকসংখ্যা মাত্র ১৯ জন। আমরা আছি পাঁচ জন – তুমি, আমি, রাফ,আলফি, মিরাজ আর ১৪ জন লোক দিয়ে আমাদের সাহায্য করেছিলো মাস্টার ইয়াংজু। তবে এই ১৪ জনই অনেক সাহসী যোদ্ধা। আমরা যে গুপ্তধনের সন্ধানে এসেছি তা মাস্টার ইয়াংজু-এর পূর্বপুরুষের সম্পদ…., কথা শেষ হওয়ার আগেই আলফি বলে ওঠে, হ্যা আমিও শুনেছি, সেখানে নাকি অনেক ধনসম্পদ লুকিয়ে রাখা। মিরাজ বলল, তখন মিরাজ বললো, কিন্তু আমরা এই কালো পাথর পাহাড়ে পৌঁছাবো কবে? আজকে ১৮ দিন হয়ে গেলো আমরা এই জনশুন্য স্থানে এসেছি। রাফ বলল, ভাই ধৈর্য ধারণ করো, ইনশাআল্লাহ আমরা খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছাব। সবার কথা থামিয়ে দিয়ে দমক বলল, এখন আমাদের ভাবতে হবে কি করা যায়, এই ফিপ্যাসের থেকে? শোনো, আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে আমরা এই অভিযানে সফল হয়ে গুপ্তধনের সমগ্র সম্পদ মাস্টার ইয়াংজু’কে পৌঁছে দিয়ে তবেই বাড়ি ফিরবো। ইতমধ্যে ক্যাসপিওদের দল আমাদেরকে বাঁধা দিতে এসেছিলো। এবং আল্লাহর মেহেরবানীতে আমরা তাদের পরাজিত করতে সফল হয়েছি হবনাই বা কেন! মাস্টার ইয়াংজু আমাদের যে যুদ্ধ কৌশল শিখিয়েছেন, এমন কোন নাফরমান আছে? আমাদের সামনে দাঁড়ানোর মত; কালকে ভোরের যুদ্ধেও ইনশাল্লাহ ফিপ্যাসের দলকে আমরা আমাদের যুদ্ধকৌশল দিয়ে ধুলিস্যাৎ করব। এখন আমার কথা মন দিয়ে শোনো, আমাদের কাছে বেশি তির নেই। শুধু আছে তরবারি। তাই কালকে ওদের লোকবলের সাথে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা দেখাতে গেলে হেরে যাবো নিশ্চিত। রাফ বলল, তাহলে এখন উপায়? দমক বলল, আমার কথা শেষ হতে দাও। কালকে আমাদের অস্ত্র হবে মগজাস্ত্র। ওর কথা শুনে সবাই একটু অবাকই হলো। মিরাজ মিরাজ কৌতুহলী জিজ্ঞেস করল সেটা কিরকম? দমক বিরক্তির সুরে বলে, আহ আমার পুরো কথাটা আগে অত্যন্ত মনযোগ সহকারে শোনো সবাই, আমরা আছি এখন একটা পাহাড়ের উপর। উত্তর পাশ দিয়ে ওর আক্রমণ করবে কারণ পথ একটাই। আমাদের পেছনে যে পাথরের বড় গোলাটা দেখতে পাচ্ছ আজকে রাতের মধ্যেই ওটাকে সরিয়ে নিয়ে উত্তরের পথে রাখতে হবে। ওরা চাইবে ঘুমন্ত অবস্থায় আমাদের ওপর আক্রমণ করতে। কিন্তু আমরা কেউই আজ ঘুমোবো না। পাহাড়ের উত্তর পাশে নিচে যে বড় খাদটা দেখা যাচ্ছে তার ওপর কিছু লাকড়ি বিছিয়ে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে দাও। আর যে প্রবল স্রোতওয়ালা নদী পার হয়ে ওরা আসবে তার ওপর আমরা কয়েকটা বড় গাছের গুড়ি ও বাঁশ রেখে দেবো। শামস বলে ওঠে, কিন্তু এতে তো ওদের আর অসুবিধে হবে। আরে’না আমরা এখন আছি এক পাহাড় চূড়ায়। আর এর নিচে যে সমতলভূমি দেখা যাচ্ছে এবং যে নদী দেখা যাচ্ছে তা আমাদের পাহাড়ের উত্তর পাশের পাদদেশে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত। আর সেখান থেকে মাত্র ৩০-৪০ পা এগুলেই এক মহা জলপ্রপাত অর্থাৎ নিচের সমতল ভূমিটাও আরেকটা উঁচু পাহাড়ের ছাদ যার উপরে বয়ে চলা নদীর পানি ওই জলপ্রপাত হয়ে সজোরে আছড়ে পড়ছে এবং প্রবাহিত হচ্ছে নিচের সমুদ্রপৃষ্ঠ বরাবর সমতল ভূমিতে। এখন আমাদের পরিকল্পনা হলো, আমাদের সাহসী ১৪ জন যোদ্ধা এখনই বাঁশ ও গাছের গুড়ি নদীর উপর সাজিয়ে সেতু তৈরি করে নদীর ওই পারে কোথাও লুকিয়ে অবস্থান নেবে। ফিপ্যাস সন্য দল নদীর উপর গাছের গুড়ি হেলানো দেখে এই পথ ধরেই আসবে, আর ঠিক তখনই আমাদের সাহসী ১৪ জন যোদ্ধা ঐ গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ টেনে নদীর ওপারে নিয়ে যাবে। আর ফিপ্যাস সন্যদল আমাদের পাহাড়ে ওঠার জন্য এগুবে, তখন পাহাড়ের গা ঘেঁষা লাকড়ি-আবর্জনা ছড়ানো ওই খাদঁকে ওরা মাটি ভেবে পা বাড়াবে কারণ পাশে আর কোন পথ নেই, এই একটাই পথ তখন লাকড়ি ভেঙে সব নিচে পড়বে। তখন উপর থেকে আমরা এই পাথরের গোলা ফেলে দেবো। ওরা ওখানেই মাটির সাথে পিশে যাবে আর যারা প্রাণ বাঁচানোর জন্য পিছনে ফিরে গাছের গুড়ির সাজানো সেতু না দেখতে পেয়ে পানিতে ঝাঁপ দেবে স্রোতের টানে জলপ্রপাতের এই উচ্চতা থেকে নিচে পড়ে তাদের নির্ঘাত মৃত্যু। শামস বলল, বাহ! দুর্দান্ত পরিকল্পনা। ভাইয়েরা চলো এখোনি কাজে লেগে পড়ি।


  • [ ] ১৪ জনের দল কে বলা হলো গাছের গুড়ি যোগাড় করে আনতে। আর দমক ও তার চার জনের দল নিয়ে পাথর ঠেলে নিয়ে এলো উত্তরের পথে, নিচে একটা কাঠের টুকরো দিয়ে পাথরটিকে আটকে রাখল। রাত অনেক গভীর। কিন্তু কারো চোখে ঘুম নেই। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। মাস্টার ইয়াংজু ওদের বারবার একটা কথা বলতেন তা হলো ‘নজর ও আত্মবিশ্বাস বিশ্বাস’। শত্রু প্রতিটা আচরণ ও পদক্ষেপের উপর নজর এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকলেই জেতা সম্ভব। ১৪ জনের সবাই নিচে গাছের গুড়ি গুলোকে খাড়া করে নদীর তীরে এনে ফেলে দিচ্ছে, লম্বা গাছের গুঁড়ির ওপর পাশ নদীর ওপারে গিয়ে পড়ছে। এভাবে বেশ কয়েকটা গাছের গুড়ি রাখা হলো। এরপর ওরা খাঁদের উপর লাকড়ি মেরামতের জোড়াতালির কাজ সেরে ফিরে এলো। তারপর সবাই আবার আগুনের পাশে বসে গল্পে মগ্ন। এখন শুধু সকাল হবার অপেক্ষা।…… শামস বলল, যতদূর জানা গেছে এই দলগুলোর পূর্বপুরুষেরাই আমাদের মাস্টার ইয়াংজু’এর পূর্বপুরুষের সম্পদ লুটে নিয়েছিল। যদিও এর সত্যতা কতটুকু তা এখনো জানা যায়নি। আর মাস্টার ইয়াংজু’ও কখনো আমাদের এর সঠিক ইতিহাসটা বলেনি। লোকমুখেই যতটুকু শুনেছি, এই আরকি। দমক বলল এই রাফ!…মাস্টারের দেওয়া গুপ্তধনের নকশাটা যত্নের সাথে তুলে রেখেছো তো? হ্যা, তা আমার কাছে সাবধানেই রাখা আছে। এভাবে কখন যে রাত ফুরিয়ে খুব আকাশের রং লালচে হতে শুরু করল। তবে সূর্য উঠতে এখনো দেরি, এদিকে কিন্তু যুদ্ধের সময় ঘনিয়ে এসেছে। দবক্স সাহসী ১৪ জন যুবক কে বলল পাহাড়ের পেছন দিয়ে তরবারি সহ নেমে যেতে এবং নদীর ওপারে অবস্থান নিতে। আর মনে রাখবে ওরা নদী পার হওয়া মাত্রই তোমরা গাছের গুড়ি গুলোকে টেনে তোমাদের ওপারে নিয়ে যাবে। তাই করা হলো। ফিপ্যাস যোদ্ধারা চলে এসেছে কিন্তু এখনো সূর্যোদয় হয় নিই। পাহাড়ের নিচে অনেক উচ্চস্বরে কলাহল করছে ওরা। দমক বলল, ওরা আমাদের উপর হানা দিচ্ছে। আর সবাই ওদের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করো এবং এখানে না থেকে পাথরের গোলার পেছনে চলো। সবাই ওর কথায় পাথরের পেছনে গিয়ে পাথর ধরে দাড়ালো আর ধাক্কা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। ভোরের ঠান্ডা আবওহায়াতে ওরা ৫ জন পাথর ধরে দারিয়ে আছে। এদিকে পাহাড়ের নিচে ঘটেগেলো মজার কিছু ব্যাপার। ফিপ্যাস যোদ্ধারা গাছের গুড়ি ডিঙিয়ে এপারে চলে এসেছে, আর তখনি আমাদের ১৪ জন ওদের পেছনে গাছের গুড়িগুলো সরিয়ে নেই। কিন্তু ক্রোধে মাতোয়ারা ফ্রান্সের দল তা খেয়াল করিনি। শব্দের এসে ভেঙেচুরে পরল লাকড়ি আর আবর্জনা ছড়ানো গর্তে ওরা বেশ ভালই বুঝতে পেরেছে উপহারটি আমরাই ওদের জন্য সাজিয়ে রেখেছিলাম। আর অনেকেই বুদ্ধি লাগিয়ে পাশকেঁটে পাহাড় বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। দমক তখনি আদেশ করল এটাই সঠিক সময়, পাথরের গোলা তে লাগাও ধাক্কা। সবাই অনেক শক্তি খরচ করলো গোলাটি নিচে ফেলতে। ওদিকে ফিপ্যাসদের অবস্থা বড্ড শোচনীয়। এত বড় পাথর নিজেদের দিকে তেড়ে এসেতে দেখে সবাই প্রাণ বাচাতে পাহাড় ছেড়ে নিচে নামতে শুরু করল। কিন্তু ওরা দেরি করে ফেলে, পাথরের চাপে ওদের মাথা-বুকের পাঁজর ভেঙে মাটিতে গুড়িয়ে যায় আর অনেকেই কোন উপায় না দেখে পানিতে ঝাঁপ দেয়। তারা প্রবল স্রোতে চলে গেল সেই জল-প্রপাতের দিকে। অবশেষে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আরও একটা যুদ্ধে জয়লাভ করলো ওরা। এবার সবাই সকালে কিছু হালকা পানাহার করে বেরিয়ে পরলো হাতে নকশা নিয়ে।

  • [ ] সময়টা ছিল খুবই রোমাঞ্চকর খুবই অন্যরকম নিয়মের আশ্রয় এই যুদ্ধটি জিতলো ওরা। পথ চলতে চলতেই ওরা গল্প করছে। শামস বলল, ভাইয়ারা দেখেছো ভাগ্য প্রতিবারই আমাদের সঙ্গ দেয় ব্যাপারটা কত অদ্ভুত তাইনা! ওদের গল্পে মিরাজও অংশ নিয়ে বলল, আলফি আর আমি যে গাছের মরা ডাল ভাঙতে গিয়েছিলাম সেখানেও ঘটে ছিল মজার এক কাণ্ড। আলফি তো ডাল ভেঙে সজরে পরল মাটিতে। আলফি বলে বসে, সময়মতো যদি ডালটা যোগার করা না হতো তাহলে পাথর সরাতাম কিভাবে?…. এভাবেই পথিমধ্যে এক চলমান হাসি গল্পে সবাই মাতোয়ারা। সবাই যেন নিজেদের ব্যাপারগুলোকে বেশি ঘটা করে প্রকাশ করতে চাইছে। কিন্তু দমক কোন কথা বলছিল না। দমককে এই অবস্থায় দেখে আলফি জিজ্ঞাসা করল, কি ব্যাপার! ফিপ্যাসের এই দলকে আমরা হারাতে সক্ষম হয়েছি তবুও তোমাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে যে! হ্যাঁ….আমার কাছে এই গুপ্তধনের নকশার পথটা খুবই অস্বাভাবিক লাগছে। সবাই একটু থ’ বুনে গেল দমকের কথা শুনে। শামস বলল, হঠাৎ এমন মনে হওয়ার কারণ? রাফও সাই দিয়ে বলল, আমাদের কাছেও যদি একটু খোলাসা করতে ব্যাপারটা, তবে ভালো হতো। হুম….বলছি দেখো আসলে আমার কাছে এই নকশাটা একটু ব্যতিক্রম ধর্মী মনে হচ্ছে। তার কারণ এখানে যে একটা বিশাল এলাকার মানচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে, তা তুলনামূলক একটু জটিল। সবাই একটু খেয়াল করো, কালো পাহাড় বা কালো পাথর পাহাড় নামের কাঙ্খিত গুপ্তধন লুকানো পাহাড়ে যাবার যে পথ এখানে দেওয়া বা আমাদের নির্দেশ করা হচ্ছে তা বাদেও আরো পার্শ্ববর্তী এলাকার চিত্র এখানে স্পষ্ট দৃশ্যমান। একটু ভেবে দেখো আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল যেখান থেকে তাকে স্থানীয় ভাষায় ‘হাজাক’ বলে তো আমরা হাজাক থেকে সোজা এসেছিলাম ‘রিসাটো’তে যদিও সেটা ছিল ক্যাসপিওদের অন্তর্গত একটা জনভূমি। এরই মাঝে শামস বলে উঠলো এই ক্যাসপিও’রা কিন্তু অনেক ধ্বংসাত্মক একটা জাতি ছিল,অনেক প্রতিবাদী ও আক্রমণাত্মক। যদিও একেবারেই অযথাই তারা আমাদের ১৯ জনকে আটক করে।

  • আলফি বলল, তবে তারা তো আমাদের বন্দি করেছিল এই ভেবে যে আমরা হয়তো জলদস্যু। দমক থামিয়ে দিয়ে বলল সে যাই হোক – সে যাই হোক, তাদের আমরা অনেকবার বোঝানো সত্ত্বেও তারা আমাদের একজনকে তাদের বিধান অনুযায়ী শাস্তি দেয় আর আমরা বিদেশী তাই ক্যাসপিওদের সরদার হয়তো আমাদের সহ্য করতে পারেন নিই। মিরাজ বলল, তবে এর সাথে আমাদের এই গুপ্তধনের নকশার অস্বাভাবিকতা সম্পর্ক কি? সেটা হলো এই যে আমাদের অনেক সংগ্রাম চালিয়ে এ পথে পৌঁছতে হবে কাল পাথর পাহাড়ে কিন্তু নকশাতে পার্শ্ববর্তী যে অঞ্চল দেখা যাচ্ছে তা এত দীর্ঘ নয় আর এত দুর্গমও নয়। খেয়াল করো ভাইয়েরা, আমাদের এখনো সামনে একটা বৃহৎ নদী পার হতে হবে কিন্তু যদি আমরা (দমক ডানপাশ নির্দেশ করে বলল) নকশার এই পথ অনুসরণ করতাম তবে তা ছিল শুধুই মরু আর জঙ্গল আর শেষ দিকে একটা পাহাড়ি উপত্যকা। আর তারপরেই আমাদের কাঙ্খিত কালোপাহাড় তাহলে কেমন করে আমাদের মাস্টার ইয়াংজু এই পথে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন ঠিক বুঝলাম না। সবাই দমকের কথা শুনে চুপ করে রইলো। ফিপ্যাসদের সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করার পর দমকের সাথে-সাথে এখন বাকি সবার কপালেই দমকের মত একটা চিন্তার রেখা দেখা যাচ্ছে। একটু ভেবে শামস বলল, সেটা হয়তোবা এই কারণেই যে আমরা মাস্টারের শিক্ষার সঠিক প্রয়োগ করতে শিখেছে কিনা অথবা তার যোগ্য শিষ্য হয়ে উঠতে পেরেছি কিনা মানে বলতে চাইছি এটা তার কনো পরীক্ষা। হুম…..হতেই পারে। এভাবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে যাচ্ছে।
            চলবে....
Design a site like this with WordPress.com
Get started